৬০ বছর বয়সে বিয়ের পিড়িতে বসছেন জাতীয় পার্টির বাবলু

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ সহকারী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। এখন তার বয়স ষাটের কাছাকাছি। আর কনে হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের ভাতিজি। ২০০৫ সালে ক্যান্সারে স্ত্রী মারা যায় জিয়াউদ্দিন বাবলুর। এরপর একমাত্র ছেলে আশিকের মুখ চেয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে রাজি হননি। কিন্তু এখন তার ছেলে ও ছেলের বউই চাচ্ছেন, তাদের বাবা আবার বিয়ে করুক।

জানা গেছে, জিয়াউদ্দিন বাবলু ১৯৮৩ সালে ফরিদা সরকারকে বিয়ে করেন। ফরিদা সরকার ছিলেন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। ২০০৫ সালে ক্যান্সারে মারা যান ফরিদা সরকার। তখন তাদের একমাত্র ছেলে আশিক ছোট। ছেলের কথা ভেবেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে রাজি হননি।

গতকার মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিয়ের বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা চলছে। তবে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তার স্ত্রী ফরিদা যখন মারা যায়, ছেলে আশিক তখন অনেক ছোট। ছেলের কথা ভেবে তিনি আর দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তা করেননি। মা-বাবা দুজনে আদর দিয়েই তিনি ছেলেকে বড় করে তুলেছেন। ছেলে বড় হয়ে বিদেশে পড়াশুনা শেষ করেছে। তারপর তিনি ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন। এখন তার ছেলেও বৌমা চায়, তাদের শুশুড় আবার বিয়ে করুক।

জিয়াউদ্দিন বাবলু আরো বলেন, আমার জীবনে ফরিদার স্মৃতি এখনো সেই আগের মতোই বেঁচে আছে। ফরিদাকে কেনদিনও ভোলা সম্ভব না। সে শুধু আমার স্ত্রীই ছিলো না, ছিলো আার বড় বন্ধু। আমার রাজনীতি জীবনের প্রধান সহযোদ্ধা। যে আমাকে সাহস জুগিয়েছে। দু:সময়ে পাশে থেকেছে। তবে এও ভাবি, ছেলের তো নিজের একটা জীবন আছে। বৃদ্ধ বয়সে আমাকে কে দেখবে? তাই ছেলে ও বৌমার অনুরোধ চিন্তা করে দেখছি। তবে সিদ্ধান্ত এখনো স্থির হয়নি বলেও জানান জিয়াউদ্দিন বাবলু।

ঢাকার গুলশানে তিনি থাকলেও প্রতি শুক্র ও শনিবার তিনি চট্টগ্রামে আসেন। নিজের বাসা চান্দগাঁওতে দলের কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান।

প্রসঙ্গত, আগে জাপার মহাসচিব ছিলেন জিয়াউদ্দিন বাবলু। গত বছরের ১৯ জানুয়ারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে তাকে মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সে সময় এ.বি.এম. রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেন এরশাদ। সম্প্রতি দলের কাউন্সিলেও মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন এ.বি.এম. রুহুল আমিন হাওলাদার। বাবলু দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যের দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চেয়ারম্যানের সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস থেকে জানা যায়, সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও প্রতাপশালী ছাত্রনেতা ছিলেন তিনি। ছিলেন ডাকসুর জিএস। এরশাদ সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা ছাড়াও পরবর্তী সময়ে এই দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং পর্যটনমন্ত্রীও ছিলেন। চট্টগ্রামের রাউজানের কদলপুরে তার গ্রামের বাড়ি হলেও জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে তিনি ছিলেন বেশি সম্পৃক্ত।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাপা নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীকে ৭৯ হাজার ৭৭৯ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট আবু হানিফ হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পান।

উৎসঃ   পুর্বপশ্চিম

1 টি মন্তব্য:


  1. First off I would like to say awesome blog! I had a quick question in which I'd like to ask if you don't mind. I was curious to know how you center yourself and clear your mind prior to writing. I've had a hard time clearing my mind in getting my thoughts out. I do take pleasure in writing however it just seems like the first 10 to 15 minutes are usually lost just trying to figure out how to begin. Any recommendations or hints? Thank you! capital one credit card login

    উত্তরমুছুন