0 comments

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (রা.) যায়দ ইবন খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সা.) অবিবাহিত ব্যভিচারী সম্পর্কে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। 

(সহীহ বুখারি : অধ্যায় শাহাদাত, হাদিস নাম্বার : ২৪৭৩)

আদম (রহ.) আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন যে, এক বেদুঈন এসে বলল, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ)! আল্লাহর কিতাব মোতাবেক আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দিন।’ তখন তাঁর প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে বলল, ‘সে ঠিকই বলেছে, হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে কিতাবুল্লাহ মোতাবেক ফয়সালা করুন। ’ 

পরে বেদুঈন বলল, ‘আমার ছেলে এ লোকের বাড়িতে মজুর ছিল। তারপর তার স্ত্রীর সাথে সে যিনা করে। ’ 

লোকেরা আমাকে বলল, ‘তোমার ছেলের উপর রাজম (পাথর মেরে হত্যা) ওয়াজিব হয়েছে। ’ তখন আমি আমার ছেলেকে একশ’ বকরি এবং একটি বাদির বিনিময়ে এর কাছ থেকে মুক্ত করে এনেছি। 

পরে আমি আলিমদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন, ‘তোমার ছেলের উপর একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন ওয়াজিব হয়েছে। ’ সব শুনে নাবী (সাঃ) বললেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে কিতাবুল্লাহ মোতাবেকই ফয়সালা করব। 

বাদী এবং বকরীপেল তোমাকে ফেরত দেওয়া হবে, আর তোমার ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত সহ এক বছরের নির্বাসন দেওয়া হবে। ’ 

আর অপরজনকে বললেন, ‘হে উনাইস, তুমি আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর কাছে যাবে (এবং সে স্ত্রী যতি স্বীকার করে) তাকে রাজম করবে। ’ উনাইস তার কাছে গেলেন এবং তাকে রাজম করলেন। (সহীহ বুখারি, অধ্যায় : সন্ধি হাদিস নাম্বার : ২৫১৬)

ইসমাঈল ইবন আব্দুল্লাহ (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহুদীগণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নিকট এসে জানাল তাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী যিনা করেছে। 

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমরা তাওরাতে রজম সম্পর্কে কি পাচ্ছ? তারা বলল, তাদের অপমান ও কশাঘাত করা হয়। 

আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যে বলেছ। তাওরাতে অবশ্যই রজমের উল্লেখ রয়েছে। 

তারা তাওরাত নিয়ে এল এবং তা খুলল। আর তাদের একজন রজমের আয়াতের ওপর হাত রেখে দিয়ে তার আংশিক পাঠ করল। তখন আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রা.) বললেন, তোমার হাত উঠাও। 

সে তার হাত উঠালে দেখা গেল যে, তাতে রজমের আয়াত বিদ্যমান রয়েছে। 

তারা বলল, আব্দুল্লাহ ইবন সালাম সত্যই বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! তাতে রজমের আয়াত সত্যই বিদ্যমান রয়েছে। 

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের উভয় সম্বন্ধে নির্দেশ করলেন এবং তাদের উভয়কে রজম করা হল। 

আমি দেখলাম, পুরুষটি নারীটির ওপর উপুড় হয়ে আছে। সে তাকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করছে। 

(সহীহ বুখারি, অধ্যায় : কাফের ও ধর্মত্যাগী হাদিস নাম্বার : ৬৩৭৮)

Read More »

0 comments
তাফসির বিশারদগণ বলেন, ‘মূলত ভালো লোকের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা বৈধ নয়।

মানুষের প্রতি অহেতুক ধারণা করা গোনাহ। প্রমাণ ব্যতিত কারো প্রতি অহেতুক খারাপ ধারণা করা ইসলামে হারাম। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ (অহেতুক) অনুমান হতে দূরে থাক। কারণ (অহেতুক) ধারণা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সুরা হুজরাত)

সৎ এবং আল্লাহভীরু লোকদের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করা, যা মন্দ অথচ ভিত্তিহীন এবং যা মিথ্যা অপবাদের আওতায় পড়ে। 

হাদিসে এ খারাপ ধারণাকে সবচেয়ে বড় মিথ্যা সব্যস্ত করে এর থেকে বিরত থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা খারাপ ধারণা থেকে বিরত থাক’।

আবার পাপাচারে লিপ্ত লোকদের পাপের কারণে তাদের পাপের ওপর খারাপ ধারণা পোষণ করা কুরআনে উল্লেখিত খারাপ ধারণা নয়; যে খারাপ ধারণা পোষণকে পাপ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং যা থেকে বিরত থাকতে তাকিদ করা হয়েছে।

তাফসির বিশারদগণ বলেন, ‘মূলত ভালো লোকের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা বৈধ নয়। আবার মন্দ লোক পাপাচারীর প্রতি মন্দ ধারণা করা অবৈধ নয়। (কুরতুবি)

হাদিসে প্রিয়নবি বলেন, ‘সাবধান! খারাপ ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাক। কেননা, খারাপ ধারণাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা। 

আর কারো বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি কর না। একে অপরের পতন বা ধ্বংস সাধন করে নিজের কল্যাণ কামনা কর না। 

একে অপরের পশ্চাৎ অবলম্বন কর না। একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণ কর না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই-ভাই হয়ে যাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)

কারো প্রতি অহেতুক খারাপ ধারণা সৃষ্টিতে শয়তান সব সময় মানুষের পেছনে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে। প্রিয়নবির হাদিস দ্বারাই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার এক স্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি তাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। 

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওই ব্যক্তিকে ডেকে বললেন, ওহে! ইনি হচ্ছে আমার (ওমুক) স্ত্রী।

তখন ওই ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি অন্য কারো ব্যাপারে এরূপ মন্দধারণা পোষণ করতামও; আপনার ব্যাপারে তো আমি এরূপ মন্দধারণা পোষণ করতাম না।

(তখন) তিনি বললেন, ‘শয়তান আদম-সন্তানের রক্তপ্রবাহের শিরায় শিরায় বিচরণ করে। (আদাবুল মুফরাদি)

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত কোনো ভালো লোকের ব্যাপারে যে কোনো ধরণের খারাপ ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকা। আল্লাহকে ভয় করা।

Read More »

0 comments
নিজেদের থেকে ছোট বয়সের ছেলেদের বিয়ে করে খুশি হন বেশির ভাগ ভারতীয় মেয়ে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। শুধু তাই নয় বিয়ের পর মানিয়ে চলতে সাচ্ছন্দ বোধ করেন মেয়েরাই।

বিয়ের পাত্র-পাত্রী বিজ্ঞাপনের সোশ্যাল সাইট ভারত মেট্রিমনিতে সমীক্ষা চালিয়ে যে তথ্যগুলি জানা যায় সেগুলো হলো- 

নিজের থেকে বয়েসে ছোট পাত্রের সঙ্গে বিয়ে করে খুশি হয়েছেন ৯৭ শতাংশ নারী।
মায়ের আঁচলের তলায় থাকা পাত্রের সঙ্গে বিয়ে করেও কোনো সমস্যা হয়নি ৮০ শতাংশ নারী। তার মানে এই নয় যে তাদের জীবনের স্বাধীনতা অভাব।
যৌথ পরিবারে বিয়ে করে খুশি রয়েছেন ৯৫ শতাংশ নারী। এদের মধ্যে রয়েছেন ৬০ শতাংশ নারী এবং ৩৫ শতাংশ পুরুষ।
স্বামীরা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ঘর গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসেন প্রায় ৯০ শতাংশ নারী।
ধৈর্যের অভাব এবং একঘেয়েমিতার জন্যই পুরুষেরা নারীদের সঙ্গে শপিং করতে যেতে পছন্দ করেন না।
জীবনসঙ্গী খোঁজার জন্য তাদের পরস্পরের জীবনধারণ এবং বোঝাপড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আবার ৮৫ শতাংশ মহিলা নিজের শহরের কাছে জীবনসঙ্গী বাছার চেষ্টা করেন। যাতে বিয়ের পর নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও সময় কাটাতে পারেন।
মেট্রিমনির কর্মকর্তা কৌশিক তিয়ারি জানান, তাদের এই সোশ্যাল মিডিয়া সমীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল একটি মেয়ে বিয়ে করতে আসেন, তখন তারা কী কল্পনা করে আসেন। কিন্তু এই সমীক্ষায় তারা অভাবনীয় ফল পেয়েছেন।

এই সমীক্ষার মাধ্যমে নারী এবং পুরুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গাঢ় হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সূত্র: এই সময়

Read More »

0 comments
সাধারণত প্রেমের ক্ষেত্রেই সঙ্গিনী বয়সে বড় থাকেন। কেউ কেউ নিজের পছন্দেই বয়সে বড় সঙ্গী বেছে নেন। কেউ আবার পাবিবারিকভাবেই বেশি বয়সের সঙ্গী বিয়ে করেন। 

তবে যেভাবেই জীবনসঙ্গী বেছে নিন না কেন, বয়সের তারতম্য হলে দাম্পত্যে নানা সমস্যা দেখা দিবে এটাই স্বাভাবিক। 

তবে সবারই যে সমস্যা হবে এমন কোন কথা নেই। বয়সে কম বা বেশি যাই হোক না কেন যে কোন সম্পর্কই মূলত গড়ে উঠে বোঝাপড়া ও ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে। কাজেই সুখী হতে দুজনের সম্পর্কের বন্ধনটা আরও দৃঢ় করুন। 

সেইসঙ্গে নিয়মিত চর্চা করুন এমন কিছু বিষয় যার কারণে বয়সের পার্থক্যটা আপনার কাছে মনে হবে শুধু একটি সংখ্যা।

এক্ষেত্রে করবেন যেসব কাজ-

সাহায্য নিন
যে কোন দরকারে আপনার স্ত্রীর সাহায্য নিন। যেহেতু তিনি বয়সে বড় তাই হয়তো তার অভিজ্ঞতা আপনার যে কোন কাজে লাগতে পারে।

অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন
যেহেতু আপনারা আলাদা সময়ে বড় হয়েছেন তাই আপনাদের দুজনের জীবনের ধারা একেবারেই আলাদা। কাজেই নিজেদের মধ্যে জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করুন। এতে সব ব্যাপার ভালমতো মানিয়ে নিতে পারলে আপনাদের জীবন অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপনারা কে কি সামলে নিয়ে এগিয়ে গেছেন তা জানা থাকলে যে কোনো কঠিন পরিস্থিতে মানিয়ে চলা সহজ হবে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার
আপনাদের বেড়ে উঠার সময় ও পরিবেশ ভিন্ন। তাই সে সময়ের সঙ্গে আজকের সময়টার সঠিক ব্যবহার করতে পারলে দেখবেন তা আপনাদের সন্তানের জন্য হয়ে উঠবে আশীর্বাদস্বরূপ। তাদের জীবনে নানান বৈচিত্র্যের সমাগম ঘটবে, ফলে পরবর্তীতে তা তাদের জীবন গড়তে সহায়তা করবে।

সম্পর্ক নিবিড় হয়
বয়সের পার্থক্য কখনো কখনো আশীর্বাদ রুপে আসে। যেহেতু আপনাদের বয়সের পার্থক্য বেশি তাই একে অন্যকে বুঝে নিতেই সময় পার করতে হয় অনেক। এই সময় পার করার ফলেই সম্পর্ক আরও গাঢ় ও নিবিড় হয়ে উঠে।

ঝগড়া করবেন না
বয়স বেশি বলে লোকে নানা কথা বলবেই। কেননা লোকের কাজই হচ্ছে অন্যের সমালোচনা করা। কাজেই সেসবে কান দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া করতে যাবেন না। এতে সম্পর্ক অনেক ভালো থাকবে।

হুকুম খাটাবেন না
স্ত্রী বয়সে বড় বলেই সর্বদা স্বামীর উপরে হুকুম খাটাবার চেষ্টা করবেন না। তাতে সমস্যা কেবল বাড়বেই। মনে রাখবেন, দাম্পত্যে সকলেই সমান। কেউ বড় বা ছোট নয়।

সামাজিকতা এড়াবেন না
অনেকেই লোকে কি বলবে এই ভয়ে সামাজিকতা এড়িয়ে চলেন। এটা কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়। মনে রাখবেন, পরস্পরের জন্য ভালোবাসাই আপনাদের সম্পর্কের সৌন্দর্য।

যদিও বিশ্বের কোন ধর্মেই সঙ্গিনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স বিষয়ক কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। আসলে বয়সের এই বিধিনিষেধ ধর্মের দিক থেকে নয়, বরং তা এসেছে আমাদের সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে। যেহেতু ব্যাপারটি এখনও সামাজিক বা পারিবারিকভাবে ততটা স্বীকৃত হয়ে ওঠেনি। 

তাই বয়স যাই হোক না কেন, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পারিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধ অটুট রাখুন। দেখবেন আপনারাই হয়ে উঠবেন সবচেয়ে সুখী দম্পতি।

Read More »

0 comments
মাহেরশালা আলী
প্রথম মুসলিম অভিনেতা হিসেবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে দামি পুরস্কার অস্কার জয়ী মাহারশালা আলী মূলত আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য। মার্কিন ড্রামা ফিল্ম ‘মুনলাইট’ ছবির জোয়ান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এবারের সেরা পার্শ্ব অভিনেতার অস্কার জয়ী হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ওকল্যান্ডের একটি খ্রিস্টান পরিবারে ১৯৭৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন এ অভিনেতা। প্রথমে তার নাম রাখা হয় এরিক গিলমোর।

পরে খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল অনুযায়ী তার নাম রাখা হয় মাহের শালাল হাশ বাজ। তার মা উইলিসিয়া একজন খ্রিস্টান মিনিস্টার (চার্চ অনুমোদিত ধর্মীয় শিক্ষক)। তিনি ছেলেকে খ্রিস্টান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

২০০০ সালে আহমদিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত অভিনেত্রী, কম্পোজার এবং শিল্পী আমাতুস সামি করিম এবং তার মায়ের সঙ্গে আহমদিয়াদের একটি উপসনালয় পরিদর্শন করেন এরিক। এরপরই খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে মুসলিম হিসেবে ধর্মান্তরিত হন এরিক। এ সময় খ্রিস্টান নাম বাতিল করে ‘মাহারশালা করিম-আলি’ নাম রাখেন তিনি।

সামি করিমের সঙ্গে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বন্ধুত্ব হয় মাহারশালার। পরে ২০১৩ সালে বিয়ে করেন তারা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ দম্পতি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তার নাম বারি নাজমা। মাহারশালা আলী ক্যালিফোর্নিয়ার সেইন্ট মেরি কলেজে ‘গণযোগাযোগ’ বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করেন। সেখানেই ‘স্পুংক’ নামে একটি মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া শেকস্পিয়র থিয়েটারে যোগ দেন। ২০০০ সালে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে অভিনয়ের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি করেন তিনি। পরে নেটফ্লিক্সের ‘হাউস অব কার্ডসে’ রেমি ড্যান্টন এবং ‘লুক কেইজে’ কর্নেল স্টোকস, দ্য হাংগার গেমস: মকিং জে পার্ট-১ ও ২ এ কর্নেল বোগাস এবং ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেনজামিন বাটনে’ টিজি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি।

২০১৬ সালে ‘মুনলাইট ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন মারশালা আলী। এজন্য গত ডিসেম্বরে তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ‘ক্রিটিক চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেন। অবশেষে ৮৯তম অস্কারও জয় করেন তিনি। এ সময় মাহেরশালা আলী তার বক্তৃতায় ইসলাম গ্রহণ এবং এ বিষয়ে তিনি ও তার মা কীভাবে পুনর্মিলিত হতে সক্ষম হন সে সম্পর্কে উপস্থিত দর্শকদের চমৎকারভাবে বর্ণনা করেন। অস্কার পরবর্তী তার বক্তৃতায় বর্তমান আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবেশের একটি প্রতিচ্ছবিই ফুটে ওঠে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মা একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পাদ্রী। আমি ১৭ বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমি যখন মাকে আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানাই তখন তিনি আমাকে দূরে ঠেলে দেননি। আমি তাকে দেখতে সক্ষম হয়েছি এবং তিনিও আমার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। আমাদের মা-ছেলের ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম হওয়ার পর আমার মা আমাকে দূরে ঠেলে দেননি। দিলে সম্পর্ক ভালো থাকত না। আমরা মা-ছেলেও ভালো থাকতাম না। বুকে টেনে নিয়েছেন বলেই আমরা উভয় সুখে আছি। ’

তার এমন বক্তব্যে ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী নীতিরই সমালোচনা করা হয়।

এর আগে ‘দ্য ফোর ফোর জিরো জিরো’, ‘ক্রসিং জর্ডান’ ইত্যাদি নামের বেশ কিছু টিভি সিরিজে অভিনয় করেন। বেশ কয়েক বছর টিভি তারকা হয়ে থাকলেও ২০০৮ সালে ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেনজামিন বাটন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। তবে বড় পর্দা তাকে এত বড় উপহার দেবে তা মাহেরশালা ভাবেননি কখনই। অস্কার পাওয়ার পর এমনটিই জানিয়েছেন এক সাক্ষাৎকারে।

Read More »

0 comments
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
শেখ আদনান ফাহাদ

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশের কতিপয় ‘সংবাদমাধ্যমের’ খবর পরিবেশনে ‘সাংবাদিকতার’ কদাকার চেহারা সামনে চলে এসেছে। ইরাক কিংবা আফগানিস্তান আগ্রাসনের সময় ইঙ্গ-মার্কিন ‘সংবাদমাধ্যম’ বিবিসি, সিএনএন যে ধরনের সাংবাদিকতা করেছে বা এখন যেমন সিরিয়া ইস্যুতে করছে, নর্থ সাউথ ইস্যুতে দেশের গুটিকয়েক ‘সংবাদমাধ্যম’ ওই রকমই ‘নটোরিয়াস জার্নালিজম’ করতে চেয়েছে। করেছে ঠিকই, কিন্তু ধরা পড়ে গেছে।

চীনে একটা কথা প্রচলিত আছে-‘ডোন্ট বি সো সিএনএন (Biased)’। বিবিসি, সিএনএন যত সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারে আমাদের মিডিয়ার চালাক অংশটি এখনো সে লেভেলে পৌঁছতে পারেনি।  এ দেশের সংবাদমাধ্যম মালিক, রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক অভিজাতরা ম্যাস পিপলকে কী মনে করেন, তারাই জানেন। ‘পাবলিক’ বলে পরিচিত জনসাধারণের সাথে আছে বদনকিতাব (ফেসবুক), ইউটিউব। কোটি কোটি মানুষের হাতে স্মার্টফোন। এখন আর কিছুই  লুকিয়ে রাখার উপায় নেই। সবকিছুই রেকর্ড হয় এখন। সবকিছুই এখন প্রকাশিত হয়, প্রচারিত হয়। প্রতিটি ব্যক্তিই যেন এই জামানায় একেকটা গণমাধ্যম হয়ে উঠছে! ফলে আগের মত মানুষকে বোকা বানিয়ে তথ্য প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখার কাজটি না করতে যাওয়াই ভালো। এইজন্য তথাকথিত ‘মূলধারার’ সংবাদমাধ্যমগুলোকে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়ে চলতে হবে।

সত্য বলতে না পারেন, মিথ্যা বলার দরকার কী? বদলে যাওয়া পৃথিবীতে একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন দূরে থাক, দিন দিন যেন মানুষের মগজ নিয়ন্ত্রণ করার অপরিণামদর্শী প্রয়াস কিছু সংবাদমাধ্যমের  আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে গরিমা করা সংবাদমাধ্যম এখন সাধারণ মানুষের কাছে শ্রদ্ধা হারাচ্ছে। ক্রমেই রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ হয়ে উঠা সোশ্যাল মিডিয়া এখন মানুষের অনেক বেশি কাছের, অনেক বেশি আপন হয়ে উঠেছে।

সব মিডিয়া হাউজেরই নিজস্ব পলিসি থাকে। এই পলিসিকে যে হাউজ যত পেশাদারিত্বের সাথে, বস্তুনিষ্ঠতার মোড়কে মেইনটেইন করতে পারে সেই সবচেয়ে সফলকাম হয়। এমন কোনো সাংবাদিক  বা সংবাদমাধ্যম কর্মী পাওয়া যাবেনা যারা নিউজ কিল করে নাই।  রিপোর্টার, সাব-এডিটর, নিউজরুম এডিটর থেকে সম্পাদক পর্যন্ত প্রতিটি স্টেজেই নিউজ ফিল্টারিং করতে হয়। নিউজ মেকিং প্রক্রিয়ার নিত্যদিনের যে চর্চা তার ফলেই তো সমাজের সংবাদযোগ্য অনেক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে আসেনা। ঘুরে ফিরে, সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসা/অফিস, বিরোধীদলীয় নেতা বাসা/অফিস, আওয়ামী লীগ/বিএনপির খবর, মন্ত্রীদের কথা, বিজ্ঞাপনদাতাদের খবর, মালিক কিংবা সম্পাদকের ব্যক্তিগত কোনো অনুষ্ঠান এগুলোই তো প্রধান খবর হয়ে আসে। উপর থেকে নিচে আসে খবর, নিচ থেকে উপরে যায় না। কোনো কোনো ঘটনা এমন বড় হয় যে কাভারেজ না দিয়ে উপায় থাকেনা। বড় কোনো ঘটনা/দুর্ঘটনা না থাকলে, সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য টাইম পাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিজেদের অনুসন্ধানী/ব্যাখ্যামূলক তেমন কোনো সাংবাদিকতা নেই বললেই চলে। এর মধ্যে আবার যদি সাংবাদিকতা হয়ে যায় দুর্বৃত্তদের হাতিয়ার তাহলে আর থাকে কী? মানুষ তো কোনো সম্মান করবেই না। দেখলে হয়তো মারতে আসবে। কিছু দুর্বৃত্তের জন্য পুরো প্রফেশনকে গালি খেতে হয়। অথচ সাংবাদিকতা করে বাংলাদেশে এখনো সমাজ বদলে দেয়া সম্ভব।

আমার মতে মূল সমস্যা মালিকানায়। আমার দেশে পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক কারা? তিনিই সবচেয়ে ভালো মালিক যিনি সৎ ও নিষ্ঠাবান এবং অবশ্যই নিয়মিত বেতন-বোনাস দেন। সারাজীবন দুই নম্বরি করে টাকা পয়সার মালিক হয়ে পত্রিকা খুলে বসলেই, সংবাদ মাধ্যমের মালিক হওয়া যায়না।

দারুণ সম্ভাবনাময় ছেলেমেয়েরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সাংবাদিকতা করতে আসছেন। কিন্তু সাংবাদিকতার মাধ্যম জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি সমাজকে বদলে দেয়ার পরিবেশ পাচ্ছেন না। স্যাররা ক্লাসে শুধু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কথা বলেন, কর্পোরেট সাংবাদিকতার কথা বলেন। শেয়ার বাজার লুট করা, ভূমি দখলকারী মালিক থেকে পেশাদার কর্পোরেট-মালিকানাধীন মিডিয়া অনেক বেশি কাম্য আমার কাছে। ব্যাংক লুট করে, দিনের পর দিন রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাত করে, চোরাকারবারি করে বিত্তবান হয়ে কালো টাকা সাদা করে দেখানোর জন্য কোম্পানি খুলে বসলেই কর্পোরেট হওয়া যায়না।

 সাংবাদিকতা কোনো ব্যাংকের চাকরি না,  কোনো এনজিও কিংবা সরকারি দপ্তরের কেরানির কাজ না। ডাক্তার, পুলিশ, আর্মিতে কাজ করতে গেলে যেমন ‘বাড়তি কিছু’ লাগে, সাংবাদিকতায় তার চেয়ে অনেক বেশি ‘বাড়তি কিছু’ লাগে। সাধারণ কাজের সাথে এর কোনো তুলনা চলেনা।

সাংবাদিকতা হল ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর’ মত পেশা। সমাজকে কলুষমুক্ত করার কাজ হল সাংবাদিকতা। শিক্ষকতা থেকেও মহান এই পেশা। এখানেও বেতন থাকতে হয়, বোনাস থাকতে হয়, ছুটি কাটাতে হয়। এখানেও প্রেমিক-প্রেমিকা থাকে, বিয়ে থাকে, সন্তান জন্মদান হয়, সন্তান বড় করা হয়। এখানেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হয়। সব আছে অন্য পেশার মতই। কিন্তু সবার থেকে আলাদা এই পেশা। সাংবাদিকতা কী? একটা প্রফেশন নাকি প্যাশন? বলা যায়, ‘অ্যা প্রফেশন উয়িথ প্যাশন’। এখানেও অফিস থাকে, বস থাকে, নিয়ন্ত্রণ থাকে। কিন্তু এখানে মূল অনুঘটক হল বিবেক, মূল্যবোধ, সংবাদমূল্য, সংবাদ চেতনা। সারাক্ষণ মানুষের জন্য কিছু করার একটা তাড়না থাকে। এটাও চাকরি। কিন্তু এই চাকরি দিয়ে নিজে ভালোভাবে বেঁচে থাকার পাশাপাশি সমাজ বদলের জন্য কাজ করা যায়। কত মহান একটা পেশা। অথচ মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এত শক্তিশালী একটা কাজের কী বাজেভাবেই না ব্যবহার হতে দেখছে দেশবাসী।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এবং দুয়েকটি পত্রিকার সংবাদ প্রতিবেদনগুলো দেখলাম। মোটর সাইকেল রাখা নিয়ে গণ্ডগোল। গার্ডরা মারধর করে ছাত্রদের। এক পর্যায়ে স্থানীয় কিছু গুণ্ডাও গার্ডের সাথে যোগ দেয়। ছাত্ররা একজোট হয় আন্দোলনে যায়। রাস্তা অবরোধ করে রাখে। যানজট হয়। কয়দিন আগে শ্রমিকরাও তো সারাদেশ অচল করে দিয়েছিল। তখন কি শ্রমিকদের কেউ ‘জঙ্গি’ বলে পরিচয় দিয়েছে? পুলিশ, র‌্যাব, আর্মি কেউ জানল না, দেশের ৯৮ শতাংশ মিডিয়া জানলনা যে যমুনা ফিউচার পার্ক এবং সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গি হামলা হয়েছে! এই একটি টেলিভিশন চ্যানেল আর কয়েকটি সংবাদপত্র শুধু জানল এবং রিপোর্ট করল। নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টদের এভাবে জঙ্গি বলার অধিকার কে দিল এসব ‘সংবাদমাধ্যমকে’? আমাদের ছেলে-মেয়েরাই তো সেখানে পড়াশুনা করে। সর্বশেষ গুলশানে জঙ্গি হামলায় অংশ নেয়া সন্ত্রাসীদের অনেকে নর্থ সাউথের স্টুডেন্ট ছিল। সেটা নিশ্চয় এক ইত্তেফাক ছিল। জঙ্গিরা নর্থসাউথকে বেছে নিয়েছিল, নর্থসাউথ জঙ্গিদের বেছে নেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিজবুত তাহরিরের লিডার হিসেবে শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছে, এইসেদিন পত্রিকায় দেখলাম সাংবাদিকতা বিভাগ থেকেই এক ছেলে হিজবুত তাহরির এর লিফলেটসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন কি বলা যাবে, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই জঙ্গি? যদিও কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজার এমন একটি প্রতিবেদন করেছিল। আমাদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে আনন্দবাজার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।

সর্বশেষ ঘটনায় কিছু সংবাদ মাধ্যম যেভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নর্থসাউথের ছেলেমেয়েদের জঙ্গি বলে দেশবাসীর সামনে হেয় করার অপচেষ্টা করেছে, সেটা শুধু ন্যাক্কারজনকই না, দেশের জন্য হুমকিস্বরূপও। রাষ্ট্রকে, সরকারকে, সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। মালিকদের ফোন করে বলতে হবে, এমন সাংবাদিকতা করলে চ্যানেল, পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হবে। কিন্তু এই সাহস কি রাষ্ট্রের আছে? মালিকদের কিছুই হয়না। মালিকদের লজ্জা লাগেনা। লজ্জা হয় আমাদের, সাংবাদিকদের। বদনাম হয় প্রফেশনের।

লেখক: 
সহকারী অধ্যাপক, 
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Read More »

0 comments
ভারতীয় সেনাবাহিনী
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ব্রিটিশ আমলের ‘সহায়ক’ প্রথা সামনে আনা জওয়ানের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। মৃত জওয়ানের নাম রয় ম্যাথুজ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহারাষ্ট্রের দেওলালি ক্যান্টনমেন্টের একটি পরিত্যক্ত সেনা ব্যারাকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। লাশটিতে পচন ধরায় মনে করা হচ্ছে, অন্তত তিন দিন আগে মৃত্যু হয়েছে তার।

৩৩ বছরের ম্যাথুজ প্রায় ১৩ বছর সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন গানার। গত মাসে একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্টিং ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাথুজসহ বেশ কয়েকজন সেনা কর্মী ঊর্ধ্বতন অফিসারদের বাড়িতে ফাইফরমাস খাটছেন। তাদের পোষা কুকুর চরাতে নিয়ে যাচ্ছেন, স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন ছেলেমেয়েদের। ব্রিটিশ আমলের এই প্রথাকে বলা হয় সহায়ক, এর মাধ্যমে নিম্ন পদমর্যাদার সেনা কর্মীরা অফিসারদের বাড়ির কাজকর্ম করেন। ওই ভিডিও প্রকাশের পর প্রশ্ন ওঠে, পুরনো এই প্রথার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর ম্যাথুজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তবে গত মাসের ২৫ তারিখ থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। তারপর গতকাল উদ্ধার হয় তার লাশ।

দেওলালি এলাকার আর্টিলারি সেন্টারের এক কর্নেল পদমর্যাদার অফিসারের অধীনে সহায়ক ছিলেন ম্যাথুজ। ভিডিও প্রকাশের পর তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন চলে কিনা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে জানা গেছে, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বেশ কয়েকজন অফিসার ম্যাথুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

শোনা যাচ্ছে, ২৫ তারিখ ইউনিট ছেড়ে পালান তিনি। তখন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে খবর। তবে সেনা বলছে, ২৪ তারিখ ওই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান ম্যাথুজ। অফিস থেকে ছুটিও নেননি তিনি।

সূত্র: টাইমস অফ ইনডিয়া

Read More »